ভোগ আরতি কীর্ত্তন (শ্রীল ভক্তিবিনোদ ঠাকুর কৃত)
ভোগারতি কীর্ত্তন
[শ্রীল ভক্তিবিনোদ ঠাকুর কৃত]
ভজ ভকত-বৎসল শ্রী-গৌরহরি ।
শ্রী-গৌরহরি সোহি গোষ্ঠ-বিহারী,
নংদ-যশোমতী-চিত্তহারী ।।
বেলা হো’ লো দামোদর, আইস এখান ।।
ভোগ-মন্দিরে বসি’ করহ ভোজন ।।
নন্দের নির্দেশে বৈসে গিরি-বর-ধারী ।
বলদেব-সহ সখা বৈসে সারি সারি ।।
শুক্তা-শাকাদি ভাজি নালিতা কুষ্মাণ্ড ।
ডালি ডাল্না দুগ্ধ-তুম্বী দধি মোচা-ঘন্ট ।।
মুদ্গ-বড়া রস-বড়া রোটিকা ঘৃতান্ন ।
শষ্কুলী পিষ্টক ক্ষীর পুলি পায়সান্ন ।।
কর্পূর অমৃত-কেলি রম্ভা ক্ষীর-সার ।
অমৃত রসালা, আম্ল দ্বাদশ প্রকার ।।
লুচি চিনি সরপুরী লাড্ডু রসাবলী ।
ভোজন করেন কৃষ্ণ হয়ে কুতূহলী ।।
রাধিকার পক্ক অন্ন বিবিধ ব্যঞ্জন ।
পরম আনন্দে কৃষ্ণ করেন ভোজন ।।
ছলে-বলে লাড্ডু খায় শ্রীমধুমঙ্গল ।
বগল বাজায় আর দেয় হরিবোল ।।
রাধিকাদিগণে হেরি নয়নের কোণে ।
তৃপ্ত হয়ে খায় কৃষ্ণ যশোদা-ভবনে ।।
ভোজনান্তে পিয়ে কৃষ্ণ সুবাসিত বারি ।
সবে মুখ প্রক্ষালয় হয়ে সারি সারি ।।
হস্ত-মুখ প্রক্ষালিয়া যত সখা-গণে ।
আনন্দে বিশ্রাম করে বলদেব-সনে ।।
তাম্বুল রসাল আনে তাম্বুল -মসালা ।
তাহা খেয়ে কৃষ্ণ-চন্দ্র সুখে নিদ্রা গেলা ।।
বিলাসক শিখি-পুচ্ছ-চামর ঢুলায় ।
আপূর্ব শয্যায় কৃষ্ণ সুখে নিদ্রা যায় ।।
যশোমতী-আজ্ঞা পেয়ে ধনিষ্ঠা-আনীত ।
শ্রীকৃষ্ণ-প্রসাদ রাধা ভুঞ্জে হয়ে প্রীত ।।
ললিতাদি সখীগণ অবশেষ পায় ।
মনে মনে সুখে রাধা-কৃষ্ণ-গুণ গায় ।।
হরি লীলা এক-মাত্র যাঁহার প্রমোদ ।
ভোগারতি গায় সেই ভকতি বিনোদ ।।
[শ্রীল ভক্তিবিনোদ ঠাকুর কৃত]
*******

কোন মন্তব্য নেই