শ্রীউপদেশামৃত PDF E-Book
শ্রীউপদেশামৃত
যাঁরা শ্রীল প্রভুপাদ এবং পূর্বতন আচার্যদের গ্রন্থাবলীর বাংলা পিডিএফ পড়তে বা ডাউনলোড করতে চান, এখানে ১০০+ গ্রন্থের সম্পূর্ণ ফাইল শেয়ার করা হয়েছে। আমি এর কোনো কপিরাইট দেই নি। আপনারা সকলে ফ্রি ডাউনলোড করতে পারবেন। আপনারা দয়া করে গ্রন্থগুলি নিজে পড়ুন, অন্যদের পারমার্থিক জ্ঞান বৃদ্ধিকরণে সকলের মাঝে শেয়ার করুন, কপিরাইটেড ক্রেডিট একমাত্র শ্রীল প্রভুপাদের; পিডিএফগুলি কেউ কোনো ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করবেন না।
কৃষ্ণভাবনামৃত আন্দোলনটি পরিচালিত হচ্ছে শ্রীরূপ গোস্বামীর দিব্য তত্ত্বাবধানে। গৌড়ীয় বৈষ্ণব মন্ডলী অর্থাৎ বঙ্গদেশীয় বৈষ্ণবরা অধিকাংশই শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর অনুগামী আর তারই সাক্ষাৎ শীর্ষ হলেন বৃন্দাবন ধামের ষড় গোস্বামী রা তাই শ্রীল নরোত্তম দাস ঠাকুর গেয়েছেন-
রুপ রগুনাথ পদে হইবে আকুতি।
কবে হাম বুঝব সে যুগল পিরিতি
যখন শ্রী রূপ গোস্বামী প্রমুখ ষড় গোস্বামীদের শাস্ত্র সম্ভার আমি হৃদয়ঙ্গম করতে আগ্রহী হব তখনই শ্রী শ্রী রাধা কৃষ্ণের অপ্রাকৃত দিব্য প্রেম লিলার মর্ম উপলব্ধি করতে সক্ষম হব। শ্রীকৃষ্ণ তত্ত্ব বিজ্ঞানের আশীর্বাদ মানবসমাজে প্রদানের উদ্দেশ্য নিয়েই শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু আবির্ভূত হয়েছিলেন। গোপীদের সাথে মাধুর্য রসের লীলাবিলাস এর মাধ্যমেই পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সমস্ত কার্যকলাপের সর্বশ্রেষ্ঠ বিকাশ ঘটেছিল। গোপী শ্রেস্টা শ্রীমতি রাধারানীর ভাবমূর্তি নিয়েই শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু প্রকটিত হন। সুতরাং শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর মহান উদ্দেশ্য উপলব্ধি করতে হলে এবং তার পদাঙ্ক অনুসরণ করতে গেলে শ্রী রূপ, শ্রী সনাতন, শ্রী ভক্ত রঘুনাথ, শ্রী জীব, শ্রী গোপাল ভট্ট এবং শ্রী রঘুনাথ দাস এই ষড় গোস্বামীর পদাংক বিশেষ গুরুত্ব সহকারে অনুসরণ করতে হবে।
শ্রীল রূপ গোস্বামী ছিলেন সকল গোস্বামীদের মধ্যে শীর্ষ স্থানীয় এবং আমাদের কার্যকলাপে পথনির্দেশের এই উপদেশামৃত গ্রন্থখানি অনুসরণ করার জন্য তিনি আমাদের প্রদান করেছেন। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু যেমন শিক্ষা অষ্টক নামে তাঁর রচিত আটটি শ্লোক আমাদের জন্য রেখে গিয়েছেন তেমনি শ্রী রূপ গোস্বামী আমাদের প্রদান করেছেন উপদেশামৃত যাতে আমরা শুদ্ধ বৈষ্ণব হয়ে উঠতে পারি।
সর্বপ্রকার পারমার্থিক কার্যকলাপে মানুষের প্রথম কর্তব্য হলো তার মন এবং ইন্দ্রিয়াদির সংযম। মন এবং ইন্দ্রিয়াদির সংযম না করলে পারমার্থিক জীবনে কেউ অগ্রসর হতে পারে না। এই জড় জগতের মধ্যে প্রত্যেকেই রজঃ ও তম গুনে নিমজ্জিত হয়ে রয়েছে। শ্রী রূপ গোস্বামী নির্দেশ অনুসারে অবশ্যই মানুষকে সত্ত্বগুণের স্তরে উন্নত হতে হবে এবং কিভাবে আরো উন্নত করা যায় তা সবই তখন উদঘাটিত হতে থাকবে।
কৃষ্ণভাবনাময় অনুগামীরা মনোবৃত্তির উপরেই নির্ভর করে তার প্রগতি। কৃষ্ণভাবনামৃত আন্দোলনের অনুগামী কে অবশ্যই শুদ্ধ গোস্বামী হয়ে উঠতে হয়। বৈষ্ণবদের সাধারণত গোস্বামী বা গোসাই বলা হয়ে থাকে। শ্রী বৃন্দাবন ধাম এর প্রত্যেকটি মন্দিরের অধ্যক্ষের এটাই পদ পরিচয়। কেউ শুদ্ধ কৃষ্ণ ভক্ত হতে চাইলে তাকে গোস্বামী হতেই হবে। গো মানে ইন্দ্রিয়সমূহ এবং স্বামী মানে প্রভু। নিজের ইন্দ্রিয়সমূহ এবং মনকে সংযত করতে না পারলে কেউ গোসাই হতে পারে না। গোস্বামী হয়ে এবং তারপরে শুদ্ধ ভাগবত ভক্ত হয়ে জীবনের চরম সার্থকতা অর্জন করতে হলে শ্রী রূপ গোস্বামী প্রদত্ত উপদেশামৃত নামে নির্দেশাবলী অনুসরণ উদ্যোগী হতে হবে। শ্রীল রূপ গোস্বামী আরো অন্য অনেক গ্রন্ত আদি প্রদান করে গিয়েছেন যেমন ভক্তিরসামৃতসিন্ধু বিদগ্ধ মাধব এবং ললিত মাধব তবে উপদেশামৃত গ্রন্থ খানের এর মধ্যেই নিহিত রয়েছে নবীন ভক্ত মন্ডল এর জন্য প্রথম নির্দেশাবলী। প্রতি কঠোর ভাবে এই নির্দেশাবলী অনুসরণ করে চলা উচিত। তাহলে সহজেই জীবন সার্থক হয়ে উঠবে।
হরে কৃষ্ণ


কোন মন্তব্য নেই